প্রকল্প অধিকর্তার বার্তা
শ্রী ভরত চন্দ্র সাহা(আই এ এস)
প্রকল্প অধিকর্তা সি এম ইউ/ কে ইউ এস পি কর্মসূচি
প্রান্তিক মানুষের জীবনের মানোন্নয়ন- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি ঘোষিত নীতি।এই নীতি রূপায়ণে পৌর বিষয়ক দপ্তর নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।এর ফলস্বরূপ কলকাতা আর্বান সার্ভিসেস ফর দ্য পুওর বা কে ইউ এস পি কর্মসূচির জন্মগ্রহণ।
বিগত কয়েক বছর যাবত এই কর্মসূচি রূপায়ণ করতে গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে উঠে এসেছে।
১| নিয়মের বেড়াজালে আটকে সরকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল গরিব মানুষের কাছে পৌছে দিতে সফল হচ্চেন না এবং
২| এও দেখা গেছে যে অনেক সময়েই বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দরিদ্র মানুষের সঙ্গে নিবিড় ভাবে কাজ করার ফলে কাঙ্খিত সুফল দেওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সাফল্য লাভ করছেন।
আর এইসব কথা মাথায় রেখেই কে ইউ এস পি কর্মসূচির অধীনে ইনোভেটিভ/চ্যালেঞ্জ ফান্ড(আই/সিএফ) শুরু হয়েছিল যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নাগরিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা কে সহজলভ্য করে তোলা।
বস্তুত বলে দেওয়া যতখানি সোজা কাজটা করা ততখানি কঠিন ছিল।নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি কে এই ফান্ডের আওতাভুক্ত করাটাই ছিল প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ।এসবের মধ্যে শহর ভিত্তিক সমষ্টি উন্নয়ন সমিতির অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
এই ফান্ডের আওতাধীন প্রকল্পগুলিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়
১| জীবিকা নির্ভর এবং
২| অন্যান্য
বিভিন্ন ধরনের জীবিকা নির্ভর প্রকল্পগুলি হল-ফোমের ব্যাগ তৈরী,জরির কাজ, প্যারা নার্সিং,কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরী, নার্সারি শিল্প গরে তোলা, ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং বিভাগ, কমদামি স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি ও বাজার জাত করা।ঘুড়ি, পাটের দড়ি, নকল অলংকার, মশালা ও ধুপ কাঠি তৈরী প্রভৃতি।
অন্যান্য প্রকল্পের অধীনে কাজ গুলি হল-অশিক্ষিত মহিলাদের জন্য শিক্ষা, শারিরীক ভাবে প্রতিবন্ধী গরিব মানুষদের বিভিন্ন উপায়ে সক্ষম করা, পুরভার কঠিন বজ্যের সঠিক ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা তৈরী,গরিব শিশুদের জন্য প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, আইনের সচেতনতা তৈরী করা ও প্রয়োজনে অনুদান দেওয়া।শরীরে আয়রনের অভাব হলে এবং এ্যানিমিয়া ধরা পড়লে সুষম খাদ্যের মাধ্যমে এর প্রতিকার করা। বাড়ীর বাগানে সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া।পাচারের বিরুদ্ধে জন সচেতনতা তৈরি করা, ধূয়াহীন উনুন বানানো যা মহিলাদের স্বাস্থে সুপ্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে এই ফান্ড থেকে অনুদান প্রাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা ১৮১ যা প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২লক্ষ গরীব মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে সক্ষম হয়েছে।আমাদের লক্ষ্য এই ফান্ডের কর্মকান্ডকে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি পৌর এলাকাতে ছড়িয়ে দেওয়া।
বর্তমানে এই ফান্ড থেকে অনুদান প্রাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা ১৮১ যা প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২লক্ষ গরীব মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে সক্ষম হয়েছে।আমাদের লক্ষ্য এই ফান্ডের কর্মকান্ডকে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি পৌর এলাকাতে ছড়িয়ে দেওয়া।
এখানে উল্লেখ করতেই হয় যে আই/সি এফ এর স্বকীয়তায় উতসাহিত হয়ে মুম্বাইইয়ের জামসেটজী টাটা ট্রাস্ট প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৫.৪ কোটি টাকা দিতে সম্মত হয়েছেন।
আমি আশা রাখি যে আগামী দিনে ইনোভেটিভ/চ্যালেঞ্জ ফান্ড থেকে বিবিধ চিত্তাকর্ষক ভাবনা প্রসূত নতুন নতুন প্রকল্প বিভিন্ন পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। আমাদের এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই ফান্ডের আওতাভুক্ত কিছু প্রকল্পের কথা তুলে ধরলাম।আশা করি পড়ে ভাল লাগবে।
নতুন নতুন চিন্তাভাবনা, আপনাদের সুচিন্তিত মতামত আমাদের চলার পথকে করবে আর সুদৃঢ; এই আশায় রইলাম।
ধন্যবাদান্তে