প্রকল্প নির্বাচনের পদ্ধতি
দুটি পর্যায়ে প্রকল্প নির্বাচন করা হবে।প্রথম পর্যায়ে আছে ধারণা পত্রের প্রস্তুতি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে অনুমোদিত বিষয়ে বিশদ বিবরণসহ প্রস্তাবের প্রস্তুতি।ধারণাপত্র ১০ পাতার বেশি না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।কে ইউ এস পি নিযুক্ত ইনোভেটিভ/চ্যালেঞ্জ ফান্ডের ভারপ্রাপ্ত ফান্ড ম্যানেজার নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতির ভিত্তিতে ধারণাপত্রের মুল্যায়ন করবেন।ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে একটি ক্ষেত্র সমীক্ষা ও করা যেতে পারে।
ধারণাপত্রের মূল্যায়ন হয়ে গেলে তা প্রজেক্ট সিলেকশন কমিটির কাছে পেশ করা হবে, চূড়ান্ত পর্যায়ের তালিকা তৈরী করার জন্য। যদি কমিটি মনে করেন যে কোন প্রার্থীর ধারণাপত্রে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন তবে সেই প্রার্থী কে আমন্ত্রণ জানানো হবে, কমিটির সামনে নিজের প্রকল্প কে আর পরিস্কার ভাবে তুলে ধরার জন্য।এ সবের পরেই কমিটি পরবর্তী পর্যায়ের চূড়ান্ত তালিকা তৈরী করবেন।
ধারণাপত্র বাছাই ও তালিকাভুক্ত হয়ে অনুমোদিত হলে প্রস্তাবের বিশদ বিবরণ(প্রোপোজাল)চাওয়া হবে।সেই বিশদ বিবরণ ২০ পাতার মধ্যে সীমিত রাখাই বাঞ্ছনীয়। যদিও এর সঙ্গে বিভিন্ন ক্রোড়পত্র সংযোজন করা যেতে পারে। যথা- মেমোরান্ডাম অফ আসোসিয়েশন,পরীক্ষিত হিসাবপত্র, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, পরিচালন সমিতির সদস্যদের নামের তালিকা, বার্ষিক রিপোর্ট ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট পরিমাপকের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাবের মূল্যায়ন হবে এবং ক্ষেত্র সমীক্ষার সাহায্যে জনসমষ্টির সঙ্গে প্রকল্পের সংযোগ পর্যবেক্ষণ ও প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করে প্রকল্প পরিচালন সংস্থার মান বিচার করা হবে।
প্রকল্পের জন্য বিশদ বিবরণ মূল্যায়ন হয়ে গেলে পরে তা আবার প্রজেক্ট সিলেকশন কমিটির সামনে পেশ করা হবে, যাঁরা প্রকল্প রূপায়ণের জন্য চূড়ান্ত তালিকা মঞ্জুর করবেন।উপরোক্ত গোটা প্রক্রিয়া, কাগজে বিঞ্জাপন দেওয়া থেকে শুরু করে, প্রকল্প রূপায়ণে চূড়ান্ত তালিকা মঞ্জুর হওয়া পর্যন্ত শেষ হতে প্রায় ৫ মাস লাগবে।
কমিটি যদি অনুভব করেন যে বিশদ বিবরণটি আরও বেশী ব্যাখ্যার দরকার সেক্ষেত্রে সভায় গৃহীত হওয়া সিধান্ত অনুযায়ী আবেদনকারীকে কিছুক্ষেত্রে পরিবর্তনের জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়।কেইউএসপি,আই/সিএফ এর পরিমাপক অনুযায়ী কোন নিয়ম মানা না হলে কমিটি সেই স্বাধীনতাও রাখে যা দিয়ে তারা বিবরণ পত্রকে বাতিল করতে পারে।তবে এই সব আবেদনকারীরা পরেরবার যে কোন বিষয়ের উপর স্বাধীনভাবে ধারণাপত্র জমা দিতে পারবে।
কী ভাবে আবেদন করতে হবে
সারা বছরই পরিকল্পিত বিষয়ের আবেদন পত্র সহধারণা পত্র আহ্বান করা হবে।
ধারণাপত্র সহ আবেদন করুন নিম্নলিখিত ঠিকানায়ঃ
দি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, কে ইউ এস পি
ইলগাস ভবন,এইচ সি ব্লক সেক্টর-৩ সল্টলেক, কলকাতা-৭০০১০৬
email: kuspcmu@vsnl. net
website: www. changekolkata. org / www.kusp-icf.in
phone: +91 (033)23378723/6226/8721
উতপাদিত সামগ্রী ও প্রক্রিয়ার অভিনবত্ব উভয় ক্ষেত্রেই ফান্ডের সহায়তা পাওয়া যাবে।উদ্যোগ কার্যকর হলে এবং তা পরীক্ষিত হয়ে যোগ্যতার পরিচয় দিলে উদ্যোগীর পক্ষে তা সঠিক পদক্ষেপ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে।কোন প্রস্তাবকে আর সময় দিয়ে আরও উন্নত ও পরিমার্জিত করে তোলার সুযোগ থাকা দরকার।প্রস্তাবিত উদ্যোগের সঙ্গে জনগণকে যুক্ত করতে হবে এবং তাদের উপর সরাসরি প্রকল্পের প্রভাব আনতে হবে।উদ্যোগ হবে সমষ্টিগত কিংবা তার প্রাতিষ্ঠানিক পটভুমিকা থাকা চাই।কোন উদ্যোগই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার উপর নির্ভরশীল হলে চল
প্রাথমিক ভাবে নিম্নলিখিত উদ্যোগ গুলি সহায়তা পেতে পারে
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এর ফান্ডের মাধ্যমে যে সব পরিকল্পিত এলাকায় সহায়তা দেওয়া হবে তা কে ইউ এস পি কার্যসূচির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এগুলি হলঃ
১| কলকাতা মহানগরী এলাকায়(কে এম এ)নগর পরিকল্পনা ও পরিচালন ব্যবস্থার উন্নতি সাধন(কলকাতা পৌরনিগম এলাকা বাদদিয়ে)।
২| দরিদ্রদের কাছে নাগরিক পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থার উন্নতি সাধন।
৩| নিম্নবিত্তদের আর্থিক উন্নতিকল্পে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।
নগর পরিকল্পনা ও পরিচালন ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে সহায়ক প্রকল্প
১| স্থানীয় স্তরে ছোট ছোট পরিকল্পনা।
২| নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকলের দক্ষতা বৃদ্ধি।
৩| দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতাবৃদ্ধি।
নগরোন্নয়ন পরিকল্পনা মাত্রই দেখা যায় যে তা যেন জনসাধারনের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।এক্ষেত্রে সেই সকল জনগোষ্ঠী, যাদের জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তাদের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা করা হয় না।এমতাবস্থায় সেই সকল পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে এই ফান্ড থেকে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে যা উপভোক্তা জনগোষ্ঠীকে সামিল করে তৈরী করা হবে।
নাগরিক পরিষেবা উন্নততর করা এবং পরিষেবা বন্টন ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সহায়ক পরিকল্প
১| পৌর পরিষেবা থেকে যারা বঞ্চিত সেইসব অবহেলিত শ্রেণীর কাছেপরিষেবা পৌছে দেবার ব্যবস্থা।
২| বিকল্প/অপ্রচলিত পরিষেবা বন্টন ব্যবস্থা।
৩| পরিষেবা বন্টন ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে গবেষণা ও তার প্রসার।
প্রায়শই দেখা যায় যে, প্রথাগত পরিষেবা বন্টন ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা থাকায় তা দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌছাতে পারে না।এক্ষেত্রে যদি কিছু বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা সকলের কাছে পৌছান যায় তবে এই ফান্ড থেকে তা অনুদান পেতে পারে।বিকল্প ব্যবস্থা বলতে উপভোক্তা জনগোষ্ঠীর পরিকল্পনা রূপায়নে অংশগ্রহণ বা পরিষেবা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠ পরিচালনের ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের কিছুতা ব্যয়ভার নেয়ার ব্যপারে উতসাহিত করে তোলা ইত্যাদি বোঝায়।এছাড়া সমষ্টি পরিচালনাধীন সম্পদগুলি যাতে ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা যায় তার জন্য প্রয়োজন হলে সম্পদ মেরামতি, তা চালু রাখা ও সংরক্ষণের দিকটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, যথেষ্ট দায়বদ্ধতা না থাকায় পরিষেবা বন্টন ব্যবস্থা নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়।বিশেষ করে গরীব মানুষেরা জানতেই পারেন না যে তাদের জন্য কি কি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা থেকে তারা কীভাবে ও কত রকম সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন।এক্ষেত্রে সেই সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাবা সেই সকল সুযোগ/সুবিধা পাওয়ার ব্যপারে তাদের সাবলীল করে তুলতে বেসরকারী সংগঠনগুলি অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে পারে।এই রকম উদ্যোগের জন্যও ফান্ড থেকে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
উন্নততর নাগরিক পরিষেবা বন্টনের জন্য বিকল্প পদ্ধতি, গবেষণা ও তার প্রসার এ সবই ফান্ডের সহায়তা লাভের যোগ্যতা অর্জন করবে।
বেশিরভাগ দারিদ্র দূরীকরণ কর্মসূচি কেবলমাত্র বি পি এল তালিকাভুক্ত লোকেদের কথা ভেবেই গ্রহণ করা হয়।কিন্তু তা সত্বেও বিভিন্ন দরিদ্রশ্রেণীর মানুষ এই তালিকার বাইরে থেকে যান।যেমন পথশিশু, ফুটপথের বাসিন্দা, গৃহহীন ও ভবঘুরের দল।এই ধরণের দরিদ্রদের জন্য কোন উদ্যোগ বা কার্যসূচি গ্রহণ করা হলে এই ফান্ড সহায়তা দিয়ে উতসাহিত করবে।দৃষ্টান্ত স্বরূপ, রাত্রাবাস, পথশিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা ইত্যাদি নানা উদ্যোগের বিষয় উল্লেখ করা যায়।যে সমস্ত প্রকল্প বা উদ্যোগ এই ধরনের প্রান্তিক গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে সমাজের মূলস্রোতের সঙ্গে মেলাবার চেষ্টা করবে ফান্ডের সহায়তায় তাকে উতসাহিত করা হবে।
যেখানে ফান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে সেখানে এই সম্পদ কি ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, কী ভাবে চালু রাখা হবে ও আর্থিক ব্যবস্থা কী হবে সেটাও একই সঙ্গে বিবেচনা করে দেখা হবে অর্থাত এই ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
নিম্নবিত্তদের আর্থিক উন্নতিকল্পে উন্নত ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্য সহায়ক পরিকল্পনা
১| স্থায়ী উপার্জনশীল কাজের জন্য দক্ষতা সৃষ্টি।
২| অর্থোপার্জন ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন।
৩| ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোগের জন্য সাধারণ কিছু সুযোগ সুবিধা ও উদ্যোগের মাধ্যমে জোটবদ্ধ ও গোষ্ঠী ভিত্তিক কাজকর্ম কে উতসাহিত করা।
৪| যে ধরনের ক্রিয়াকান্ডের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের রুজি জড়িত সেখানে অর্থনৈতিক কাজকর্মের গতি ব্যহত হলে সমস্যা দূর করার প্রচেষ্টা।
কলকাতায় শহরাঞ্চলীয় দারিদ্রের রূপটি বহূবিধ সমাজিক ও অর্থনৈতিক কারণের এক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলশ্রুতি।শহরের বহু দরিদ্রমানুষ শুধু যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার দিক থেকে বঞ্চনার সম্মুখীন হয়েছেন তাই নয়, জীবিকা নির্বাহের জন্য নিশ্চিত আয়ের নিরাপত্তার সুযোগ ও তাদের নেই।এর মূলে আছে নিম্নমানের দক্ষতা, জীবিকার ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের অভাবজনিত নিরাপত্তাহীনতা, পুরনো আমলের চালু সংস্থাগুলির অচলবস্থা এবং খেতে খাওয়া অধিকাংশ মানুষ যেখানে কাজ করেন সেখানে পুঁজির অভাব।এই ধরনের পরিস্থিতির চাপেই শহরাঞ্চলে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।এক্ষেত্রে পরিকাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু কিছু অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ কে উজ্জীবিত করার জন্য শহরাঞ্চলীয় পরিচালন ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রশাসক একটি মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।
সমাজের বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর দুরবস্থা দূর করতে ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা এক দৃষ্টান্ত মূলক সাফল্যের নজির তুলে ধরতে পারে।উল্লিখিত সমস্যার নিরসনে এই ধরনের অভিনব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ফান্ড থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
যে প্রকল্প স্থায়ী ও অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিশেষ পেশা অবলম্বনকারী দরিদ্র মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় নিযুক্ত, সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান কেন্দ্র (শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল), অর্থনৈতিক উদ্যোগ প্রবর্তন ও পুনঃপ্রবর্তনের জন্য গোষ্ঠী সংগঠিত করা ইত্যাদি উদ্যোগের ক্ষেত্রে ফান্ড সহায়তা দেবে।নতুন নতুন ব্যক্তিকে নতুন নতুন বৃত্তিতে নিযুক্ত করার উদ্দেশ্য দক্ষতা গড়ে তোলার উদ্যোগ কে ও সহায়তা দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে স্বল্পব্যয়ে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্প সংস্থায়।এই সংস্থাগুলি প্রায়শই যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন হয়, সেগুলি হল গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা, প্রতিযোগীতার বাজারে ঢুকতে না পারা, বাজার সর্ম্পকে অনভিজ্ঞতা, অর্থনীতির পরিমাপ,সাধারন পরিকাঠামো এবং পণ্য সামগ্রীর উতকর্ষ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগীতার অভাব।যে প্রকল্পগুলি এই ধরনের সমস্যা গুলির প্রতি নজর রাখে এবং ছোট ছোট উদ্যোগকে সহযোগিতা করে সেই সব প্রকল্প ফান্ডের সহায়তা লাভের যোগ্য বিবেচিত হবে।
অর্থনৈতিক কাজের যে সব ক্ষেত্রে বহূ দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ নিযুক্ত রয়েছেন, সেখানে কোন প্রতিবদ্ধকতা থাকলে তা দূর করার জন্য যে প্রকল্পগুলি সচেষ্ট, ফান্ড সেখানে সহায়তা দেবে।যেমন , যে সব ফেরিওয়ালা ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীর জীবিকার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও পুলিশী হস্তক্ষেপ কমিয়ে, তাদের জন্য উন্নততর জায়গা ও তাদের কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করে দিতে উদ্যোগী সেইসব প্রকল্প ফান্ডের সহায়তা পাবে।
যে প্রকল্পগুলি ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতা পাবে না
বৃহত পরিকাঠামো ও পরিষেবা বন্টন প্রকল্পে বিনিয়োগ
ফান্ড থেকে পরিষেবা বন্টন কিংবা পরিকাঠামো যথা রাস্তাঘাটনির্মাণ, জলসরবরাহ, নিকাশীব্যবস্থা, গৃহনির্মাণ, সাধারনের জন্য শৌচাগার ইত্যাদি বাবদ কোন আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে না কারণ এই ধরনের উদ্যোগে কোন উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট নেই।এর পক্ষে দুটি যুক্তি রয়েছে।প্রথমত বস্তি এলাকা স্তরে ও এলাকায় কোন পরিকাঠামোতে কোন ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের এবং সেই এলাকাগুলি কে পরিষেবা পৌছে দেবার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়।উপরন্তু এই এলাকাগুলি কে ইউ এস পি প্রকল্পের আওতায় একটি বৃহত কর্মক্ষেত্র হওয়ায় এই ধরনের কাজের জন্য এখানে মোটা অর্থ বরাদ্দ আছে।দ্বিতীয়ত, বৃহত পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ করে অন্যান্য উদ্যোগ প্রকল্পকে কোনঠাসা করা ঠিক নয়।বরং প্রকল্পের ক্ষেত্রে আসবাবপত্র,কম্পিউটার ও কিছু ভোগ্য সামগ্রী অপরিহার্য।এই ধরনের ব্যয় প্রকল্প রূপায়নে ফান্ডের সহায়তা লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে,অবশ্য যদি না প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আর্থিক সহায়তার সিংহভাগ বলে গণ্য না হয়।
পুরোপুরি বানিজ্যিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে সহায়তা মিলবে না
পুরোপুরি বানিজ্যিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে যেমন নতুন দোকান চালু করা বা নতুন ব্যবসার স্থাপন করা, ভবিষ্যতে যারা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার য্যোগ্যতা রাখে,তা সহজেই ব্যাঙ্ক বা অন্যান্য আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণ পেতে পারে।এক্ষেত্রে ফান্ড কোন রকম সহায়তা দেবে না।এর আর দৃষ্টান্ত চায়ের দোকান বা মুদির দোকান।
কিন্থু যদি এমন কোন বানিজ্যিক উদ্যোগ থেকে থাকে যা কে ইউ এস পি এর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা হয়ত ভবিষ্যতে আর্থিক ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়,তবে তার জন্য এই ফান্ড সহায়তা করতে পারে।একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে ফেরি করা পণ্য বিক্রেতাদের পণ্য রাখার জন্য একটি রাত্রাবাস চালু করার ব্যবস্থার উল্লেখ করা যায়।
কেন্দ্র/রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অর্ন্তগত কর্মকান্ড
কেন্দ্রীয় সরকার আই এস এম টি,এস যে এস আর ওয়াই প্রভৃতি প্রকল্প পরিচালনা করে থাকেন।এর মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পই পরিকাঠামোর জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে,যা কিনা আমরা আগেই জেনেছি যে ফান্ডের অনুদানের এক্তিয়ারে নেই।এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আরো বহু প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন।সুতরাং, সেইসব প্রকল্প যা অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে, ফান্ডের অনুদান লাভের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান দ্বিতীয় হওয়া উচিত।
কারা উপভোক্তা হবেন
শহরাঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক গোষ্ঠী এই ফান্ডের উপভোক্তা হবেন।এছাড়া নারী, সমাজচ্যুত শ্রেণী,সামাজিক সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত মানুষ, ফুটপথের বাসিন্দা, দৈহিক ও মানসিক প্রতিবদ্ধী ও শিশুদের ও অর্ন্তভুক্ত করার কথা বিশেষভাবে বিবেচিত হবে।
কাজের এলাকা
ইনোভেটিভ/ চ্যালেঞ্জ ফান্ড কেবলমাত্র কে ইউ এস পি-র এলাকার মধ্যে প্রকল্প রূপায়নে সহায়তা করবে।এই এলাকা কলকাতা মহানগরী এলাকা (কে এম এ)র প্রতিনিধিত্ব করবে। আয়তনে ১৭৮৫,০৪ বর্গকিলোমিটার বিশিষ্ট এলাকায় প্রায় দেড় কোটি (২০০১ সালে জনগণনানুযায়ী, সাময়িক হিসেবে) মানুষের বসবাস। কে ইউ এস পি এলাকায়, কলকাতা পৌর নিগম ও কলকাতা মহানগর এলাকার মধ্যে সবকটি গ্রামীণ এলাকা বাদে, ৩৮টি পৌরসভা ও ২টি পৌরনিগম সহ ৪০টি শহরাঞ্চলীয় পৌরসভা রয়েছে।
ফান্ড কি ভাবে কাজ করবে
প্রকল্প রূপায়ণে, ইনোভেটিভ চ্যালেঞ্জ ফান্ডের তরফে দুটি সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।একটিতে প্রকল্পের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তথা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে প্রকল্প রূপায়ণে দক্ষকরে তুলতে ছোট মাপের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দ্বিতীয়টিতে প্রকল্পের রূপায়ণের ক্ষেত্রে বড় মাপের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।ফান্ডে যে অর্থাগম হবে তা কখন তামাদি হবে না এবং এই ফান্ড ও বিভিন্ন প্রকল্পকে অনুদান হিসাবে আর্থিক সহায়তা দেবে।
কী ধরনের প্রস্তাব আর্থিক সহায়তা পাবে
এই ফান্ড থেকে সহায়তা পেতে গেলে প্রস্তাবের ধরনে কোন না কোন অভিনবত্ব থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে অভিনবত্ব বলতে যেমন নতুন কোন চিন্তা প্রসূত উদ্যোগ ও হতে পারে, তেমনি আবার কোন চালু সমস্যার সমাধানে নতুন পদক্ষেপ ও হতে পারে। এছাড়া সেই সব উদ্যোগ কেও অভিনব বলা যাবে যেগুলি হবে আধুনিক, বৈপ্লবিক, দিগনির্দেশক, সৃজনশীল, কল্পনামূলক, অপ্রচলিত এবং নতুনধ্যান ধারনার একীকরণে প্রয়াসী।একটি অভিনব প্রকল্প পরীক্ষামূলক ও হতে পারে।প্রকল্পটি তে সাফল্য পাওয়া গেলে আরো বড় আকারে তার পুর্নবিন্যাস করা যেতে পারে অথবা/এবং সরকারের হাতে তা তুলে দেওয়া যেতে পারে।
অনুদানের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন
নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে উদ্যোগ প্রকল্প রূপায়নে যে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তার জন্য নানা রকম বেসরকারী সংস্থা ফান্ডের কাছে আবেদন প্রার্থী হবেন।এই সংস্থাগুলির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সহ বিভিন্ন নাগরিক জনগোষ্ঠীকেও অর্ন্তভুক্ত করা যেতে পারে।ব্যক্তিগত উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোন আবেদনপত্র গ্রাহ্য হবে না।পৌরসভা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলিও অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে না কারণ তার ফলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।আবেদনকারীদের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশনএক্ট, কো-অপারেটিভস এক্ট,ট্রেড ইউনিয়ন্স এক্ট ইত্যাদির যে কোন একটি আইনের আওতায়পৃথক পৃথক ভাবে বৈধ অস্তিত্ব নিবন্ধভুক্ত করতে হবে।অনুদানের জন্য আবেদনকারীদের হিসাবপত্র কোন চাটার্ড একাউন্ট্যান্ট ফার্ম দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
অনুদানের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন
- মহিলারা
- সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়
- সামাজিক সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী
- ফুটপথবাসী
- প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ/প্রতিবন্ধী শিশুরা